জেলাসি টেস্ট

জেলাসি টেস্ট: সঙ্গীর লাস্ট সিন দেখা কি তোমার অভ্যাস হয়ে গেছে?

জেলাসি টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

গার্লফ্রেন্ড ফেসবুকে কার ছবিতে হাহা দিল, বয়ফ্রেন্ড রাত একটায় অনলাইন কেন, বেস্ট ফ্রেন্ড নতুন কার সাথে কক্সবাজারে গেল আর তোমাকে ডাকল না। এই চিন্তাগুলো মাথায় এক মিনিট থাকে, নাকি সারারাত? জেলাসি টেস্ট ঠিক এটাই মাপে। ডেটিং, বন্ধুত্ব আর সোশ্যাল মিডিয়ার ১০টি খুব চেনা পরিস্থিতি সামনে আসে, তুমি বলো সেখানে তুমি আসলে কী করো।

স্কোর জমে ৩০ পর্যন্ত, আর তিনটি ফলের একটি আসে: "একদম চিল", "একটুখানি জেলাস" বা "ঈর্ষার দৈত্য"। সাথে দুই লাইনের ব্যাখ্যা, কেন এমন হয় আর কী করলে হালকা লাগে। নাম, ফোন নম্বর বা লগইন লাগে না, উত্তর কোথাও জমা থাকে না।

এটা কোনো মানসিক পরীক্ষা নয়, পাঁচ মিনিটের আয়না। তবে দশটি প্রশ্নের পরে অনেকেই প্রথমবার স্বীকার করে যে লাস্ট সিন দেখাটা আসলে অভ্যাস হয়ে গেছে।

1 সৎভাবে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও
2 সাথে সাথে তোমার রেজাল্ট দেখো
3 শেয়ার করো আর সঙ্গী বা বন্ধুদেরও টেস্টটা দিতে বলো

জেলাসি টেস্ট কার জন্য, আর কী বোঝায়?

যার সম্পর্ক আছে, যার নেই কিন্তু ক্রাশ আছে, আর যার বেস্ট ফ্রেন্ড হঠাৎ অন্য গ্রুপে বেশি সময় দিচ্ছে, তিনজনের জন্যই। প্রশ্নের অর্ধেক প্রেম নিয়ে, বাকি অর্ধেক বন্ধু আর ক্যারিয়ার নিয়ে, তাই সিঙ্গেল হলেও দেওয়া যায়।

টেস্ট বলে না তুমি ভালো না খারাপ মানুষ। হিংসা সবারই হয়; প্রশ্ন হলো সেটা তোমাকে দিয়ে কী করায়: চুপচাপ মেনে নেওয়া, খোলাখুলি বলা, নাকি গোপনে ফোন ঘাঁটা।

জেলাসি টেস্টের ছবি: ধোঁয়া ওঠা একটি রাগী মুখ, একটি সবুজ হার্ট, একটি মোবাইল ফোন আর এক জোড়া চোখ

স্কোর কীভাবে হিসাব হয়, আর ঈর্ষার দৈত্য কত পয়েন্টে?

প্রতিটি পরিস্থিতিতে চারটি উত্তর, শান্ত থেকে উত্তেজিত ক্রমে। প্রথমটি ০ পয়েন্ট, শেষটি ৩। যেমন বন্ধুরা তোমাকে না ডেকে আড্ডা দিলে "নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে" ০, আর "সবাইকে এ নিয়ে মেসেজ করো" ৩।

১০টি প্রশ্নে সর্বোচ্চ ৩০। ৯ পর্যন্ত একদম চিল, ১০ থেকে ১৯ একটুখানি জেলাস, ২০ বা তার বেশি হলে ঈর্ষার দৈত্য। মাঝের ধাপটাই সবচেয়ে বেশি মানুষ পায়, কারণ সেটাই স্বাভাবিক।

জেলাসি টেস্টে কোন ধরনের পরিস্থিতি আসে?

প্রশ্নগুলো তৈরি এমন সব মুহূর্ত থেকে, যেগুলো নিয়ে এখানে বন্ধুদের মধ্যে রাতভর ঝগড়া হয়। কয়েকটি নমুনা:

  • সঙ্গী তার অফিসের কলিগের সাথে খুব হাসাহাসি করছে, তুমি পাশে বসে আছ। মজা লাগছে, নাকি ভেতরে ভেতরে জ্বলছ?
  • বেস্ট ফ্রেন্ডের স্টোরিতে নতুন একজন, যাকে তুমি চেনো না। খুশি হও, নাকি মনে হয় জায়গাটা হাতছাড়া হলো?
  • ক্লাসের বন্ধু সেই স্কলারশিপটা পেল যেটার জন্য তুমিও অ্যাপ্লাই করেছিলে। অভিনন্দন জানাও কোন মনে?
  • সঙ্গী তার এক্সের গল্প তুলল। কৌতূহল, জেরা, নাকি সারাদিন মুখ ভার?
  • ছুটির দিনে সঙ্গী তোমাকে ছাড়া বন্ধুদের সাথে বেরোল। নিজের মতো সন্ধ্যা কাটাও, নাকি ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন?

ফল "ঈর্ষার দৈত্য" এলে কি আমি খারাপ সঙ্গী?

না। উঁচু স্কোর মানে এখন তোমার মনে নিরাপত্তাহীনতা বেশি কাজ করছে, অনেক সময় পুরোনো কোনো ধোঁকা বা ছেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে। টেস্টের শেষ প্রশ্নটা, কারও বিশ্বস্ততা কখনো পরীক্ষা করেছ কি না, সেটাই আসল সংকেত। সন্দেহ হলে ফোন ঘাঁটার বদলে সরাসরি বলা, "ওই ছবিটা দেখে আমার খারাপ লেগেছে", বেশিরভাগ সময় অর্ধেক ঈর্ষা কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে জেলাসি টেস্ট এত শেয়ার হয় কেন?

কারণ আমাদের প্রেম আর বন্ধুত্বের বড় অংশ এখন মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম আর টিকটকে চলে, আর ওখানে সবকিছু দেখা যায়: কে কাকে ফলো করল, কে কার স্টোরিতে রিঅ্যাক্ট দিল, কে কখন অ্যাকটিভ ছিল। দেখা যায় বলেই হিংসার খোরাকও বেশি।

তাই কাপলরা একসাথে বসে দুজনেই টেস্ট দেয় আর স্কোর মেলায়; যে বেশি পায়, তাকে নিয়ে কয়েক দিন খোঁচাখুঁচি চলে। মেসেঞ্জার গ্রুপে কেউ "ঈর্ষার দৈত্য" পোস্ট করলে বাকিরা হাসতে হাসতে নিজেরটাও দেয়, আর হঠাৎ দেখা যায় গ্রুপের সবচেয়ে শান্ত জনেরই স্কোর সবচেয়ে বেশি।

জেলাসি টেস্ট: যে প্রশ্নগুলো সবাই করে

জেলাসি টেস্ট কি গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডের জন্য আলাদা?

না, একই ১০টি প্রশ্ন সবার জন্য। প্রশ্নে "সঙ্গী" লেখা থাকে, ছেলে বা মেয়ে নির্দিষ্ট করা নেই। চাইলে দুজনে পাশাপাশি বসে দাও, তবে একজনের উত্তর অন্যজন দেখলে সৎ উত্তর দেওয়া কঠিন হয়। আলাদা আলাদা দিয়ে পরে ফল মেলানোই ভালো।

আমি সিঙ্গেল, তাহলেও কি জেলাসি টেস্ট দিতে পারব?

পারবে। চারটি প্রশ্ন বন্ধু আর ক্যারিয়ার নিয়ে, যেমন বন্ধুর নতুন বন্ধু হওয়া বা কারও চাকরি পাওয়া। সঙ্গীর প্রশ্নগুলোতে শেষ সম্পর্ক বা এখনকার ক্রাশের কথা ভেবে উত্তর দাও। স্কোর একটু কম আসতে পারে, কারণ সম্পর্ক না থাকলে ফোন চেক করার সুযোগও থাকে না।

একটু জেলাস হওয়া কি স্বাভাবিক, নাকি সমস্যা?

একটু হওয়া একদম স্বাভাবিক; টেস্টের মাঝের ফলটার নামই তাই "একটুখানি জেলাস"। সমস্যা তখন, যখন অনুভূতিটা কাজে গড়ায়: পাসওয়ার্ড চাওয়া, লাস্ট সিন মেলানো, বন্ধুদের সাথে দেখা করতে বাধা দেওয়া। টেস্টের উঁচু পয়েন্টের অপশনগুলো ঠিক এই কাজগুলোই।

জেলাসি টেস্টের ফল কি সঙ্গীকে দেখানো উচিত?

তোমার ইচ্ছা। অনেক কাপল হাসতে হাসতে দেখায়, আর সেটা একটা ভালো শুরু হতে পারে: "দেখো, আমি ২২ পেয়েছি, তোমার লাস্ট সিন দেখা বন্ধ করতে চাই"। তবে ফল দিয়ে সঙ্গীকে দোষ দেওয়া বা "তুমি তো দৈত্য" বলে খোঁচানো উল্টো কাজ করে।

জেলাসির স্কোর কমাতে চাইলে কী করব?

প্রথমে খেয়াল করো কোন প্রশ্নে ৩ পয়েন্টের উত্তর দিয়েছ; ওগুলোই তোমার ট্রিগার। এরপর একটা ছোট নিয়ম নাও, যেমন এক সপ্তাহ সঙ্গীর অনলাইন স্ট্যাটাস না দেখা। অস্বস্তি হলে মনে মনে না রেখে সরাসরি বলো। এক মাস পর আবার টেস্ট দিলে পার্থক্যটা চোখে পড়বে।

জেলাসি টেস্টের উত্তরগুলো কি কোথাও সেভ হয়?

না। পুরো হিসাব তোমার ফোনের ব্রাউজারেই হয়, সার্ভারে কিছু যায় না আর কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। পেজ বন্ধ করলে সব মুছে যায়। শেয়ার করলে শুধু ফলের নামটা যায়, যেমন "একদম চিল", কোন প্রশ্নে কী বেছেছ তা নয়।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →